সম্মিলিত চেষ্টায় পারে সফলতা | ইবিডি নিউজ
শনিবার, নভেম্বর ১৭পরীক্ষা মূলক

সম্মিলিত চেষ্টায় পারে সফলতা

মো:মামুনুর রহমান :: চাইলে সবই হয় যদি বন্ধরা থাকে পাশে । হারিয়ে যাওয়া জেসি কে মা-বাবার কোলে ফিরিয়ে দিয়ে সেটিই প্রমাণ করলেন চট্টগ্রামের কয়েকজন তরুণ-তরুণী ।

গত মে মাসের ৩ তারিখে জান্নাতুল মাওয়া জেসি (৮) স্কুলে গিয়ে আর বাসায় ফেরিনি । স্কুল, পাড়া প্রতিবেশি ও আত্মীয়দের কাছে খোঁজ নিলেও মেয়ের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি । থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন করে জেসির বাবা-মা । কিন্তু এর পর ও কোন খোঁজ মিলেনি তাঁদের মেয়ের । শেষ পর্যন্ত মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশায় ছেড়ে দিয়েছে জেসির বাবা-মা ।

জেসিকে উদ্ধারকারী অক্সিজেন বাসীন্ধা মুন ও তার এবং তাঁর বন্ধুরা জানায়, জেসি নামের মেয়েটি গত তিনদিন আগে বহদ্দারহাটে মুন’র মামার দোকানে গিয়ে কান্নাকাটি শুরু করে দেয় । বাধ্য হয়ে তার মামা মেয়েটিকে বাসায় নিয়ে আসে ।এর পর মুন’র মা জাকিয় হারুন ঠিক করেন কিভাবে জেসি কে নিজের বাড়িতে রাখা যায় । তিনি তখন রিকশা নিয়ে জেসি’র বাসার খোজে বের হন ।

মুন পরে বিষয়টি তাঁর বন্ধু পিপুন বড়ুয়াকে জানান ।মুন এবং পিপুন বড়ুয়া তাঁর কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে মেয়েটির কাছে গিয়েছে তার বাড়ির ঠিকানা জানতে চায় । মেয়েটি কিছু না বলতে পারলেও জানায় যে, তার বোন আলীনগর ব্র্যাক স্কুলে পড়ে । এ সূত্র ধরে অনলাইনে কাজ করুয়া পিপুন এবং জোবায়েদ খান গুগল সার্জ ইন্জিন থেকে ঠিকানা নিয়ে ব্র্যাকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে মোবাইল করে পুরো বিষয়টি জানায় । এর মধ্যে মুন’র মা পুরো ঠিকানা জোগাড় করে ফেলেন । ব্র্যাকের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আলীনগর স্কুলে খোঁজ করে জেসির বড় বোনের সন্ধান পায় । পরে তা পিপুন ও তার বন্ধুদের জানায় । সেই সূত্র ধরে জেসির পরিবারকেও তারা খুঁজে বের করা হয় ।

তারপর ব্র্যাক থেকে জেসির আশ্রয়দানকারী পরিবারের সাথে কথা বলে মেয়েটিকে আজ শুক্রবার রাতে ব্র্যাক আঞ্চলিক কার্যালয়ে আনতে বলা হয়। পরে মেয়েটিকে তার পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

প্রশ্ন করা হলে জেসি জানায়, সে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় পথ হারিয়ে হেঁটে হেঁটে বহদ্দারহাটে চলে যায় । সেখানে গিয়ে সে ভিক্ষা করত। বিভিন্ন দোকানের সামনের জায়গায় রাতে ঘুমাতো। সে বাড়ির ঠিকানা আলীনগরের নাম অনেককেই বলতে চেয়েছে কিন্তু কেউ তার ঠিকানাটা বুঝতে পারেনি, বুঝতেও চায়নি।

জেসির বাবা জসীম উদ্দিন আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেন, আশাই ছিল না হারিয়ে যাওয়া মেয়েটিকে ফেরত পাব। শুকরিয়া আল্লাহ’র কাছে। আর যারা আমার মেয়েকে আমার কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে তাদের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ।

জাকিয়া হারুন প্রাতবেদক কে জানান, “মেয়েটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিবে পেরে আমি কি যে খুশি হয়েছি তা বলে বুঝাতে পারবো না ।আমরা চাইলেই যে কোন ভালো কাজ খুব সহজেই করতে পারি । এর জন্য প্রয়োজন সামান্য চেষ্টা আর সাহস । আমরা সাহস নিয়ে না আগালে হয়তো মেয়েটির ঠিকানা কোথায় হতো তা ভাবা যায় না ।”

জেসির উদ্ধারকারী মুন জানায়, আমি ভয় পায়নিিআমার মা আর বোন যেবাবে আমাকে সাহস জোগিয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না । তাদের একান্ত চেষ্টায় আমরা মেয়েটিকে তার মা-বাবার কাছে পৌছে দিতে পেরেছি ।”