এই রমজানে কাদের উপর রোজা ভাঙ্গা জায়েজ? | ইবিডি নিউজ
বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২২পরীক্ষা মূলক

কাদের উপর রোজা ভাঙ্গা জায়েজ?

রোজাশুরু হয়ে গেলো পবিত্র রমজান মাস। আল্লাহর নৈকট্য লাভের সাধনার এই মাসে সারা পৃথিবীর মুসলমানরা পানাহার এবং জৈবিক চাহিদা থেকে দূরে থাকবেন। সংযমের এই মাসে সবাই চেষ্টা করবেন ইবাদত- বন্দেগি বেশি বেশি করতে। কিন্তু কেউ যদি রোগাক্রান্ত হন, তবে তার জন্য রয়েছে ইসলামের সহজ বিধান। প্রয়োজনে রোজা ভাঙা যাবে।

আলিমগণের মতে, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন চার জন ইমাম (আবু হানিফাহ, মালিক, শাফিঈ ও আহমাদ রহ.), একজন রোগীর জন্য রমজান মাসে রোজা ভঙ্গ করা জায়েয নয় যদি না তার রোগ তীব্র হয়।

আর তীব্র রোগের অর্থ হলো:
১. রোজার কারণে যদি রোগ বেড়ে যায়।
২. রোজার কারণে যদি আরোগ্য লাভে দেরি হয়।
৩. রোজার কারণে যদি খুব বেশি কষ্ট হয়, যদিও বা তার রোগ বেড়ে না যায় বা সুস্থতায় বিলম্ব না হয়।
৪. এর সাথে আলিমগণ আরও যোগ করেছেন, এমন ব্যক্তিও রোজা ভাঙতে পারবেন, যে এমন সমস্যাগ্রস্ত যার কারণে রোজা রাখলে রোগ হতে পারে।

ইবনু ক্বুদামাহ-রাহিমাহুল্লাহ-‘আল-মুগনী’ (৪/৪০৩)-তে বলেছেন, ‘যে রোগ রোজা ভঙ্গ করা বৈধ করে তা হলো অত্যধিক রোগ যা রোজা পালনের কারণে বেড়ে যায় বা সে রোগ থেকে সুস্থতা লাভে দেরি হওয়ার আশংকা রয়েছে।’

কারা রোজা ভাঙতে পারবেন; এমন একটি প্রশ্ন করা হয়েছিলো ইমাম আহমাদ রহ.কে। তার সেই কথোপকথনটি পাওয়া যায় বিভিন্ন গ্রন্থে। সেটি নিম্নরূপ।

ইমাম আহমাদকে বলা হলো, ‘একজন রোগী কখন রোজা ভঙ্গ করতে পারে?’
তিনি বললেন, ‘যদি সে (রোজা পালন করতে) না পারে।’
তাঁকে বলা হলো : ‘যেমন জ্বর?’
তিনি বললেন, ‘কোন রোগ জ্বর থেকে কঠিনতর!’

ইমাম আন-নাওয়াউয়ী ‘আল-মাজমূ’-তে (৬/২৬১) বলেছেন, ‘রোজা পালনে অক্ষম রোগী যার রোগের সুস্থতা আশা করা হয়, তার জন্য রোজা পালন বাধ্যতামূলক নয়। এই নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে, যদি রোজার কারণে কষ্ট হয় আর এক্ষেত্রে এটি শর্ত নয় যে, তাকে এমন অবস্থায় পৌঁছাতে হবে যখন একেবারেই রোজা পালন সম্ভব নয়।’

ইমাম আন-নাওয়াউয়ী বলেছেন, ‘হালকা রোগ যার কারণে বিশেষ কষ্ট হয় না, তার জন্য রোজা ভঙ্গ করা জায়েয নয়, এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই।’ [আল-মাজমূ‘(৬/২৬১)]

শাইখ ইবনু ‘উসাইমীন বলেছেন : ‘যে রোগী সাওম পালনের কারণে প্রভাবিত (ক্ষতিগ্রস্ত) হয় না, যেমন: হালকা সর্দি, হালকা মাথা ব্যথা, দাঁতে ব্যথা ইত্যাদির ক্ষেত্রে সাওম ভঙ্গ করা হালাল ন।’

যদিও ‘আলিমগণের কেউ কেউ বলেছেন তা তার জন্য হালাল এই আয়াতের ভিত্তিতে – وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوۡ عَلَىٰ سَفَرٖ فَعِدَّةٞ مِّنۡ أَيَّامٍ أُخَرَۗ﴾ [البقرة: ١٨٥; ‘আর যে কেউ অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে তবে অন্যান্য দিবসে সংখ্যা পূরণ করে নিবে।’ [আল-বাকারাহ: ১৮৫]