গৃহবন্দি জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট মুগাবে | ইবিডি নিউজ
মঙ্গলবার, মে ২২পরীক্ষা মূলক

গৃহবন্দি জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট মুগাবে

জিম্বাবুয়েজিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবেকে রাজধানী হারারেতে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা।

জুমার কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, বুধবার জুমা টেলিফোনে মুগাবের সঙ্গে কথা বলেছেন।

“আজ ভোরে প্রেসিডেন্ট জুমা প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের সঙ্গে কথা বলেছেন। মুগাবে তাকে আটকে রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদিও তিনি সেখানে ভালো আছেন বলেও জানিয়েছেন।”

এ পরিস্থিতিতে সাউদার্ন আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট কমিউনিটি থেকে বিশেষ প্রতিনিধি দল জিম্বাবুয়ে পাঠানো হবে বলেও ওই বিবৃতিতে জানানো হয়।

জিম্বাবুয়ের সেনাপ্রধান জেনারেল কনস্ট্যানটিনো চিয়েঙ্গার অনুগত বাহিনী মঙ্গলবার রাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন স্টেশন জেডবিসির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

পরদিন সেখান থেকেই এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবেকে ঘিরে থাকা ‘অপরাধীদের দলকে’ লক্ষ্য করে। তবে ৯৩ বছর বয়সী মুগাবে ও তার পরিবার ‘সুস্থ ও নিরাপদে’ আছেন।

এই অভিযান শেষ হলেই দেশে দ্রুত ‘স্বাভাবিক পরিস্থিতি’ ফিরে আসবে বলে ওই বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করেন সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র।
বিবিসি জানায়, সেনাবাহিনী রাজধানী হারারের সড়কগুলোতে পাহারা দিচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট মুগাবে গত সপ্তাহে তার ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়াকে বরখাস্ত করলে চলমান এই সঙ্কটের সূচনা হয়। নানগাগওয়াকে এতদিন মুগাবের উত্তরসূরি ভাবা হলেও সম্প্রতি তার জায়গায় ফার্স্ট লেডি গ্রেস মুগাবের নাম সামনে চলে আসে।

জিম্বাবুয়ে থেকে বিবিসির প্রতিনিধি এমারসন এমনানগাদওয়া বলেন, খুব সম্ভবত মুগাবেকে সরিয়ে নানগাগওয়াকে ক্ষমতায় আনতে সেনাবাহিনী এ অভিযান চালাচ্ছে।

বুধবার ভোরে হারারের উত্তরাঞ্চলে ভারী অস্ত্রের গুলি এবং কামান দাগার শব্দ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। নগরীর ওই এলাকাতেই প্রেসিডেন্ট এবং প্রভাবশালী অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের বাসস্থান।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে হারারেতে অবস্থান করা দেশটির নাগরিকদের পরিস্থিতি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত নিজেদের নিরাপত্তার খাতিরে বাড়ি বা আবাসস্থল থেকে বাইরে না বেরনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সেখানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসও নাগরিকদের একই পরামর্শ দিয়েছে।

জিম্বাবুয়ের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার চীন।

চীনা কর্তৃপক্ষ সেখানকার পরিস্থিতি গভীর মনযোগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে জানিয়ে বলে, দেশটির রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ এই সংকট ‍উত্তরণের পথ খুঁজে বের করতে পারবে বলে তারা আশাবাদী।