চাল ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স নিয়ে নমনীয় সরকার | ইবিডি নিউজ
শনিবার, জুন ২৩পরীক্ষা মূলক

চাল ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স নিয়ে নমনীয় সরকার

চাল ব্যবসাখাদ্য অধিদফতর থেকে সারাদেশের চাল ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স নিয়ে অনেকটা নমনীয় হয়েছে সরকার। গত ৩০ অক্টোবর সময়সীমা শেষ হলেও কতজন লাইসেন্স নিয়েছেন তার হিসাব নেই খাদ্য অধিদফতরের কাছে।

সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, এখনও কোনও ব্যবসায়ী চাইলে লাইসেন্স নিতে পারবেন। এ প্রক্রিয়া চলতে থাকবে। এ ক্ষেত্রে সরকার অনেকটাই নমনীয়।

কারণ ব্যাখ্যা করে সূত্রটি জানিয়েছে, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে এখন চালের বাজারে স্থির, দামও কিছুটা কমেছে। আমনের নতুন ফসল কাটা শুরু হলে চালের দাম আরও কমবে। তাই সরকার এখন নতুন কোনও প্রেক্ষাপট তৈরি করতে চায় না। যদি কেউ লাইসেন্স না নেন তবে সরকার এখনই তার বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাবে না।

এদিকে, সরকারের একটি মহল মনে করে সরকার যদি এখনই এ বিষয়ে অ্যাকশন নেয় তবে চালের বাজার আবারও অশান্ত হয়ে উঠতে পারে। তাই এটা নিয়ে আর ঘাটাঘাটি করতে চায় না সরকার।

এ প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ‘চাল ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স নেওয়ার সময় বাড়ানো হয়নি। সময়সীমার মধ্যে কতজন লাইসেন্স নিয়েছেন তার হিসাবও করা হয়নি। আগামী ৯ নভেম্বর এ বিষয়ে আলোচনা করতে সংশ্লিষ্টদের ডেকেছি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লাইসেন্স নিতে সরকারি নির্দেশে ক্ষুব্ধ চাল ব্যবসায়ীরা। তারা মনে করেন, চালের দাম কমাতে এবং চালের মজুদ বন্ধ করতেই এমন নির্দেশনা জারি করা হয়, যা বাস্তবায়ন করা হলে চালের বাজার নতুন করে অস্থির হয়ে উঠতে পারে।

ব্যবসায়ীরা মনে করেন, লাইসেন্স নিতে বলা খুচরা ব্যবসায়ীদের প্রতি চরম অন্যায় ও অবিচার। এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা ব্যবসায়ীদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে চাল আমদানিতে আরও জটিলতা ও খরচ বাড়বে।

তবে চালকল মালিকরা মনে করেন, এটি সরকারের ভালো সিদ্ধান্ত। এ নির্দেশ বাস্তবায়ন হলে সারাদেশে চাল বা গমের মজুদের পরিমাণ জানা যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বদরুল হাসানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, ৩০ অক্টোবরের মধ্যে দেশের সব চাল ব্যবসায়ীদের খাদ্য অধিদফতর থেকে লাইসেন্স নেওয়ার নির্দেশনা দেন খাদ্যমন্ত্রী। এছাড়া প্রতি ১৫ দিন পর পর গুদামের চাল ও গমের হিসাব স্থানীয় খাদ্য অধিদফতরকে অবহিত করারও নির্দেশ দেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, কন্ট্রোল অব কমোডিটিস অ্যাক্ট অনুযায়ী লাইসেন্স নিতে নির্দিষ্ট ফি জমা দিতে হয়। ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে হয়রানির শিকারও হবেন।