দ্বৈত ভোটারের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ ইসির | ইবিডি নিউজ
শনিবার, ডিসেম্বর ১৫পরীক্ষা মূলক

দ্বৈত ভোটারের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ ইসির

নিক মামলা

দ্বৈত ভোটারের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে ‘অসৎ উদ্দেশ্যে’ দ্বৈত ভোটার হওয়ায় নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার দুই জন ভোটারের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়ে ইসি উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কাছে চিঠি দিয়েছে। এছাড়া এ ধরনের আরও কিছু ভোটারের বিরুদ্ধে মামলা করতে ইসির নির্দেশনা যাচ্ছে। একইসঙ্গে কেউ যেন দ্বৈত ভোটার হতে পারেন, তার জন্য কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অবশ্য নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ মামলার নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটা ভোগাস খবর। এই ধরনের কোনও চিঠি দেওয়া হয়নি বা সিদ্ধান্ত হয়নি। অসৎ উদ্দেশ্যে অনেকে দ্বৈত ভোটার হতে পারেন, এটা অনেক ক্ষেত্রে ঠিক। কিন্তু অনেকে না বুঝে দ্বৈত ভোটার হন। এ জন্য আমরা যেটা করি, তাহলো প্রথম ভোটারটি রেখে পরেরটি বাদ দিয়ে দেই।’

কমিশন সূত্রে জানা গেছে নোয়াখালীর দুই জন ভোটারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে উপসচিব মো. আব্দুল হালিম খান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি রবিবার পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘জেলার হাতিয়া উপজেলার মো. আবদুল খালেক (ভোটার নং ৭৫১৭৮৩০০০৯৭ ও ৭৫১৭৮৩০০০২৯৯) এবং মো. আবদুল মান্নান (ভোটার নং ৭৫১৭৮৩৯৬৭৯০০ ও ৭৫১৭৮৩০০০২৭৮) উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অসত্য/মিথ্যা তথ্য দিয়ে বা তথ্য পরিবর্তন করে দু‘বার ভোটার হওয়ায় কমিশন তাদের বিরুদ্ধে ‘ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯-এর-১৮’ অনুযায়ী মামলা দায়েরের জন্য সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে নির্দেশনা দিয়েছে। ওই চিঠিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে মামলার বিবরণসহ সচিবালয়কে অবহিত করার জন্যও বলা হয়। ‘ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯-এর-১৮ অনুযায়ী, যদি কোনও ব্যক্তি-(ক) কোনও ভোটার তালিকা প্রণয়ন, পুনঃপরীক্ষণ, সংশোধন বা হালনাগাদকরণ সম্পর্কে; বা (খ) কোনও ভোটার তালিকাতে কোনও অন্তর্ভুক্তি বা উহা হইতে কোনও অন্তর্ভুক্তি কর্তন সম্পর্কে; এমন কোনও লিখিত বর্ণনা বা ঘোষণা প্রদান করেন, যাহা মিথ্যা এবং যাহা তিনি মিথ্যা বলিয়া জানেন বা বিশ্বাস করেন বা সত্য বলিয়া বিশ্বাস করেন না, তাহা হইলে তিনি অনধিক ছয়মাস কারাদণ্ড বা অনধিক দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’

এদিকে ইসির যুগ্ম-সচিব ও এনআইডি উইংয়ের পরিচালক (অপারেশন্স) এর কাছে পাঠানো আরেকটি চিঠিতে, এই দুই ব্যক্তির প্রথমবারের অন্তর্ভুক্তি বহাল রেখে দ্বিতীয়বারের অন্তর্ভুক্তি বাতিল করার ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে। সব উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসার ও রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন কার্যক্রমকালে কিছু ভোটার দ্বৈত ভোটার হিসেবে এএফআইসি ম্যাচিংয়ের মাধ্যমে চিহ্নিত হয়েছে। এসব চিহ্নিত ভোটার ভিন্ন ভিন্ন হাতের আঙুলের ছাপ ও ভোটারের ব্যক্তিগত তথ্য আংশিক পরিবর্তন করে একই ব্যক্তিকে দু’বার ভোটার হওয়ার বিষয়ে যিনি বা যারা সহযোগিতা করবেন, পরবর্তী সময়ে তা তদন্তে প্রমাণিত হলে তার বা তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসারদের সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে তাদের অধীন কর্মচারীদেরও এ বিষয়ে জানাতে বলা হয়েছে।

এতদিন দ্বৈত ভোটারদের আগের জাতীয় পরিচয়পত্র ঠিক রেখে পরের বাদ দিয়ে দেওয়া হতো। অনেক ক্ষেত্রে দুটো এনআইডি-ই লক করে রাখতো নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরবর্তী সময়ে ক্ষমা চেয়ে আবেদন করার পরিপ্রেক্ষিতে তার আগেরটি বহাল রেখে পরেরটি বাদ দেওয়া হতো। বর্তমানে কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দ্বৈত ভোটার হলে তার বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা আইন অনুযায়ী মামলা করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসি সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি দ্বৈত ভোটার হওয়ার কারণে টাঙ্গাইল, পঞ্চগড়, নোয়াখালী, বরিশাল ও পিরোজপুরের কয়েকজনের বিরুদ্ধেও মামলা করার জন্য মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। ৩১ জানুয়ারি চলতি বছরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার দিন ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবার ২ লাখ ৪ হাজার ৮৩১ জন দ্বৈত ভোটার চিহ্নিত করা হয়েছে।