জাতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ রিচার্ড হ্যালসলের পদত্যাগ | ইবিডি নিউজ
শনিবার, নভেম্বর ১৭পরীক্ষা মূলক

ফিল্ডিং কোচ রিচার্ড হ্যালসল পদত্যাগ

শেষ পর্যন্ত গুঞ্জনকে সত্যি করে বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচ রিচার্ড হ্যালসল পদত্যাগ করেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) গ্রহণ করেছে তার পদত্যাগপত্র।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে হ্যালসলের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ ব্যাপারে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, পারিবারিক কারণেই তার এই পদত্যাগ।

নিদাহাস ট্রফিতে খেলতে যাওয়ার আগেই হ্যালসলকে নিয়ে ‘লুকোচুরি’ চলছিল। জাতীয় দলের এই সহকারী কোচকে বাদ দিয়ে কোর্টনি ওয়ালশকে যখন ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়, প্রশ্নটা তখন থেকেই উঁকি মারছিল, তবে কী শেষ হতে যাচ্ছে হ্যালসল অধ্যায়?

২০১৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচ হিসেবে বিসিবি নিয়োগ দেয় জিম্বাবুয়েতে জন্ম নেওয়া হ্যালসলকে। বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি ছিলেন ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ। পরে অবশ্য বাংলাদেশের সহকারী কোচের দায়িত্বটাও পান হ্যালসল। ২০১৪ থেকে ২০১৮- চার বছর বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব পালন করা হ্যালসল মঙ্গলবার থেকে ‘সাবেক’ হয়ে গেলেন।

মঙ্গলবার বিসিবি হ্যালসলের পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সেই সঙ্গে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এই সংস্থাটি।

এ ব্যাপারে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন বলেছেন, ‘রিচার্ড (হ্যালসল) আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। আমরা বুঝতে পেরেছি, তার এই সিদ্ধান্তটি পারিবারিক কারণেই নেওয়া। তিনি বাড়ির কাছাকাছি, বিশেষ করে তার অসুস্থ বাবার কাছাকাছি কোথাও থাকতে চান। বোর্ড তার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে শ্রদ্ধাশীল। এই কারণে আমরা তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি।’

সাবেক এই ফিল্ডিং কোচকে ধন্যবাদ দিয়ে প্রধান নির্বাহী বলেছেন, ‘গত চার বছরে রিচার্ড বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টের অবিচ্ছেদ্য সদস্য এবং জাতীয় দলের অনেক সাফল্যের অংশ ছিলেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটে তার অবদানের জন্য বোর্ড থেকে তাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। ভবিষ্যতে আমরা তার সাফল্য কামনা করি।’

হ্যালসলও এক বিবৃতিতে ধন্যবাদ জানিয়েছে বিসিবিকে, ‘আমি জাতীয় দলের সঙ্গে চারটি দারুণ বছর কাটিয়েছি। কিছু দারুণ সহকর্মীর পাশাপাশি চমৎকার পরিবেশ পেয়েছি কাজ করার। আমার কর্মজীবন বিকাশের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

হ্যালসল পদত্যাগপত্রে ‘পারিবারিক কারণ’ উল্লেখ করলেও বাতাসে ভাসছে অন্য গুঞ্জন। ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে কাউকে না জানিয়ে ছুটিতে চলে যান হ্যালসল। অথচ সামনেই ছিল নিদাহাস ট্রফি। বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান ব্যাপারটি জেনে হ্যালসলের ছুটি বাড়িয়ে দেন, যাতে শ্রীলঙ্কা যেতে না পারেন এই জিম্বাবুয়েন!

বোর্ড সভাপতির ছুটি বাড়িয়ে দেওয়ার পর থেকেই আলোচনা- হ্যালসলকে ছাঁটাই করতেই কি এই বাড়তি ছুটি? বিসিবি সভাপতি, কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ক্রিকেটাররা সবাই নাকি বিরক্ত হ্যালসলের ওপর। দুয়ে দুয়ে চার আরও মিলে যায় নিদাহাস ট্রফির আগে হ্যালসলকে নিয়ে নাজমুল হাসানের এই কথায়, ‘(ঘরের মাঠের) শ্রীলঙ্কা সিরিজের পর আমি দলের সব কোচের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলাম। কিন্তু তখন রিচার্ড হ্যালসলকে পাইনি।’